Verse 1: এরপর অবশালোম নিজের জন্য একটা রথ এবং অনেকগুলো ঘোড়া নিল| যখন সে রথ চালিয়ে যেত তখন তার রথের সামনে দৌড়াবার জন্য 50 জন লোকও ছিল|
Verse 2: অবশালোম প্রতিদিন সকালে খুব ভোরে উঠে ফটকের কাছেএসে দাঁড়াত| অবশালোম এমন একজনকে খুঁজত যে তার সমস্যা নিয়ে বিচারের জন্য রাজা দায়ূদের কাছে যাচ্ছে| অবশালোম তার সঙ্গে কথা বলত| অবশালোম বলত, “কোন শহর থেকে তুমি আসছ?” লোকটা হয়তো বলত, “আমি ইস্রায়েলের অমূক পরিবারগোষ্ঠীর অমূক পরিবারের লোক|”
Verse 3: তখন অবশালোম তাকে বলত, “দেখ, তুমি ঠিক বলেছ কিন্তু রাজা তো তোমার কথা শুনবেন না|”
Verse 4: অবশালোম বলত, “আহা, আমার ইচ্ছা হয় কেউ বেশ আমাকে এই দেশের বিচারক করে দিত| তাহলে যারা সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসত তাদের প্রত্যেককে আমি সাহায্য করতে পারতাম| তার সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান পেতে আমি তাকে সাহায্য করতে পারতাম|”
Verse 5: যদি কোন ব্যক্তি অবশালোমের কাছে এসে মাথা নীচু করে, তাহলে সে তার সঙ্গে তার সবচেয়ে ভাল বন্ধুর মতই ব্যবহার করত| আবশালোম গিয়ে তাকে হাত বাড়িযে জড়িয়ে ধরত এবং চুম্বন করত|
Verse 6: সমস্ত ইস্রায়েলীয়রা, যারা রাজা দায়ূদের কাছে ন্যাযের জন্য আসত তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই অবশালোম এক রকম আচরণ করত| এই ভাবে অবশালোম ইস্রায়েলের লোকদের মন জয় করেছিল|
Verse 7: চার বছরপর অবশালোম রাজা দায়ূদকে বলল, “হিব্রোণে থাকার সময় প্রভুর কাছে যে বিশেষ প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তা পূরণ করার জন্যে আমাকে যেতে দিন|
Verse 8: অরামের গশূরে থাকার সমযেও আমি সেই একই প্রতিশ্রুতি করেছিলাম| আমি বলেছিলাম, ‘প্রভু যদি আমাকে জেরুশালেমে ফিরিযে আনেন, আমি প্রভুর সেবা করব|”‘
Verse 9: রাজা দায়ূদ বলেন, “শান্তিতে যাও|”অবশালোম হিব্রোণে চলে গেলেন|
Verse 10: কিন্তু অবশালোম ইস্রায়েলের প্রত্যেকটা পরিবারগোষ্ঠীর কাছে গুপ্তচর পাঠাল| চররা লোকদের বলতে লাগল, “যখন তোমরা শিঙার রব শুনবে তখন বলবে ‘অবশালোম হিব্রোণের রাজা হয়েছে|”‘
Verse 11: অবশালোম তার সঙ্গে যাবার জন্য200 জন লোককে ডাকল| তারা তার সঙ্গে জেরুশালেম থেকে চলে গেল কিন্তু তারা জানে না, সে কি পরিকল্পনা করেছে|
Verse 12: অহীথোফল দায়ূদের অন্যতম একজন পরামর্শদাতা ছিল| অহীথোফল ছিল গীলো শহরের লোক| অবশালোম যখন উত্সর্গ নিবেদন করেছিল তখন সে অহীথোফলকে তার শহর গীলো থেকে ডেকে পাঠাল| অবশালোমের ফন্দি খুব ভালভাবেই কার্য়করী হয়েছিল এবং বহু লোক তাকে সমর্থন করেছিল|
Verse 13: দায়ূদকে সংবাদ দিতে একজন লোক এলো| সে বলল, “ইস্রায়েলের লোকরা অবশালোমকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে|”
Verse 14: তারপর দায়ূদ জেরুশালেমে বসবাসকারী তাঁর সব আধিকারিকদের বললেন, “আমরা পালিয়ে যাব| আমরা যদি পালিয়ে না যাই, অবশালোম আমাদের যেতে দেবে না| তাড়াতাড়ি কর, যেন অবশালোম আমাদের ধরতে না পারে| সে আমাদের এবং জেরুশালেমের সব লোককে মেরে ফেলবে|”
Verse 15: রাজার আধিকারিকরা তাঁকে বলল, “আপনি আমাদের যা বলবেন, আমরা তাই করব|”
Verse 16: রাজা দায়ূদ লোকজন সহ পালিয়ে গেলেন| রাজা তাঁর বাড়ী দেখাশোনা করার জন্য তাঁর দশজন উপপত্নীকে রেখে গেলেন|
Verse 17: রাজা চলে যেতে সব লোকরাও তাঁকে অনুসরণ করল| শেষ বাড়ীতে গিয়ে তারা থামল|
Verse 18: তাঁর সমস্ত আধিকারিক তাঁর সামনে দিয়ে হেঁটে সবলে গেল| করেথীয, পলেথীয এবং (গাতের 600 পুরুষ) রাজার সামনে দাঁড়াল|
Verse 19: রাজা গাতের ইত্তযকে বললেন, “কেন তুমিও আমাদের সঙ্গে যাচ্ছ? ফিরে যাও| নতুন রাজা অবশালোমের সঙ্গে য়োগ দাও| তুমি একজন ভিন্দেশী| এটা তোমার দেশ নয়|
Verse 20: কেবলমাত্র গতকাল তুমি আমাদের সঙ্গে য়োগ দিয়েছ| তুমি নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ঘুরে বেড়াবে না? তুমি তোমার ভাইদের নাও এবং যাও| তোমার প্রতি দয়া ও আনুগত্য প্রদর্শিত হোক্|”
Verse 21: কিন্তু ইত্তয রাজাকে উত্তর দিল, “আমি প্রভুর নামে শপথ নিয়ে বলছি, আপনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন আমি আপনার সঙ্গেই থাকব!”
Verse 22: দায়ূদ ইত্তযকে বললেন, “এসো, আমরা কিদ্রোণ স্রোত পার হয়ে যাই|”তখন গাতের ইত্তয এবং তার সব লোক তাদের ছেলে-মেয়েসহ কিদ্রোণ স্রোত পার হয়ে গেল|
Verse 23: সব লোকরা উচ্চৈস্বরে কাঁদছিল| রাজা দায়ূদ কিদ্রোণ স্রোত পার হয়ে গেলেন| তারপর সব লোক মরুভূমির পথে পা বাড়াল|
Verse 24: সাদোক এবং তার সঙ্গে অন্যান্য লেবীয়রা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল| তারা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক নামিযে রাখল| যতক্ষণ পর্য়ন্ত না সব লোক জেরুশালেম ত্যাগ করল, ততক্ষণ পর্য়ন্ত অবিয়াথর পবিত্র সিন্দুকের পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং প্রার্থনা করলেন|
Verse 25: রাজা দায়ূদ সাদোককে বললেন, “ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক জেরুশালেমে নিয়ে যাও| প্রভু যদি আমার প্রতি প্রসন্ন হন, তিনি আবার আমায় জেরুশালেমে ফিরিযে আনবেন এবং আমাকে জেরুশালেম ও তাঁর আবাস স্থান দেখতে দেবেন|
Verse 26: আর যদি প্রভু আমার প্রতি প্রসন্ন না হন, তিনি আমার প্রতি তাঁর যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন|”
Verse 27: রাজা যাজক সাদোককে বললেন, “তুমিও একজন ভাববাদী| তুমি শান্তিতে নগরীতে ফিরে যাও| তোমার পুত্র অহীমাস এবং অবীযাথরের পুত্র য়োনাথনকে সঙ্গে নিয়ে এস|
Verse 28: মরুভূমিতে যাবার জন্য যে জায়গায় সবাই নদী পার হয়, সেখানে আমি তোমার কাছ থেকে কোন খবর না পাওয়া পর্য়ন্ত অপেক্ষা করব|”
Verse 29: সেই মত, সাদোক এবং অবীযাথর ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক জেরুশালেমে নিয়ে গিয়ে রেখে দিল|
Verse 30: দায়ূদ জৈতূন পর্বতে উঠলেন| তিনি কাঁদছিলেন| তিনি মাথা ঢেকে খালি পাযে গেলেন| অন্যান্য সকলে মাথা ঢেকে দায়ূদের সঙ্গে গেল| তারাও কাঁদতে কাঁদতে দায়ূদের সঙ্গে গেল|
Verse 31: একজন লোক দায়ূদকে বলল, “যারা অবশালোমের সঙ্গে ফন্দি আঁটছে অহীথোফল তাদের মধ্যে একজন|” তখন দায়ূদ প্রার্থনা করলেন, “প্রভু আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করি তুমি অহীথোফলের চক্রান্ত ব্যর্থ কর|”
Verse 32: দায়ূদ পর্বতের শিখরে এলেন| এখান থেকে তিনি মাঝে মাঝে ঈশ্বরের উপাসনা করতেন| সেই সময় অকীয হূশয তাঁর কাছে এল| তার মাথায় ধূলোবালি এবং পরণে ছিন্নবস্ত্র|
Verse 33: দায়ূদ হূশযকে বললেন, “যদি তুমি আমার সঙ্গে যাও তাহলে আমাকে দেখাশোনা করবার জন্য তুমি হবে আর একজন ব্যক্তি|
Verse 34: কিন্তু যদি তুমি জেরুশালেমে ফিরে যাও তবে তুমি অহীথোফলের চক্রান্তকে ব্যর্থ করতে পারবে| অবশালোমকে গিয়ে বল, ‘হে রাজা আমি আপনার দাস| আমি আপনার পিতার সেবা করেছি| এখন আমি আপনার সেবা করব|’
Verse 35: সাদোক এবং অবিয়াথর যাজকগণ তোমার সঙ্গে থাকবেন| রাজার বাড়ীতে তুমি যা যা শুনেছ, তুমি অবশ্যই তাদের সবই বলে দেবে|
Verse 36: সাদোকের পুত্র অহীমাস এবং অবিয়াথরের পুত্র য়োনাথন তাদের সঙ্গে থাকবে| তুমি রাজার প্রাসাদে যা কিছু শুনবে, তা ওদের মাধ্যমে আমাকে জানাতে থাকবে|”
Verse 37: তারপর দায়ূদের বন্ধু হূশয সেই শহরে চলে গেল| অবশালোমও জেরুশালেমে এল|